হোসেনপুরে পার্চিং পদ্ধতিতে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:২৯ | অনলাইন সংস্করণ
আশরাফ আহমেদ, হোসেনপুর

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা আমন মৌসুমে ধানখেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে ধানখেতে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া হয়। এসব ডাল ও কঞ্চিতে বসে পাখি বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলে। ফলে পোকা দমনে কীটনাশকের ব্যবহার কমছে এবং ধান উৎপাদন খরচও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা ধানখেতে পোকা দমনের জন্য গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি পুঁতে রেখেছেন। এসব ডাল ও কঞ্চিতে পাখি বসে ধানখেতের বিভিন্ন পোকামাকড় ধরে খাচ্ছে।
উপজেলার ব্লক সুপারভাইজার ও কৃষি উপ-সহকারী জাহিদ হাসান রণি বলেন, পার্চিং একটি কার্যকর পোকা দমন পদ্ধতি। এতে কৃষক স্বল্প পরিশ্রমে উপকৃত হচ্ছেন। এলাকার কৃষকেরা ব্যাপকভাবে এই পদ্ধতি গ্রহণ করছেন এবং ভালো ফল পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে কৃষকেরা উপকারী ও ক্ষতিকর পোকা সহজে চিনতে পারছেন। কোনো পোকা দেখলেই কীটনাশক দিতে হবে—এ ধারণাটিও যে সঠিক নয়, তা কৃষকেরা বুঝতে পারছেন।
উপজেলার চরহাজিপুর গ্রামের কৃষক স্বপন মিয়া ও চরকাটিহারী গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, ধানখেতে বাঁশের কঞ্চিতে পাখি বসে পোকামাকড় ধরে খায়। এতে ক্ষেতের পোকার আক্রমণ অনেকাংশে কমে গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পার্চিংয়ের জন্য পাখি বসে একটি ক্ষতিকর পোকা খেলে ১৫০ থেকে ২৫০টি পোকা দমন হয়। কারণ, একটি ক্ষতিকর পোকা ১৫০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তবে জমির আইল থেকে ধানখেতের মাঝামাঝি অবস্থানে পার্চিং স্থাপন করা হলে বেশি ভালো ফল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসিন জানান, জমিতে পার্চিং করলে পাখি সহজেই ফসলের ক্ষতিকর পোকা ধরে খেয়ে ধ্বংস করে। ফলে পোকা বংশবিস্তার করতে পারে না এবং কৃষকরা উপকৃত হন। এর মাধ্যমে ধানখেতে কীটনাশকের ব্যবহার বহুলাংশে কমে যাবে বলেও জানান তিনি।
