যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে চরাঞ্চল, হুমকিতে স্কুল

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  এস. এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে বসতবাড়ি ও জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর পানি সামান্য করে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যমুনার তীরবর্তী চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যে সোমবার সকালে চৌহালী উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বহু জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয়টিও নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চরাঞ্চলের এ বিদ্যালয়টি রক্ষায় দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়টি রক্ষায় ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত বালুর বস্তা দিয়ে ডাম্পিং করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে যেকোনো মুহূর্তে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে যমুনা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানের বসতবাড়ি ও জায়গা-জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ও ভাঙনের মুখে অবস্থান করছে। এর আগে কিছুদিন আগে কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সকালে হঠাৎ করেই চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়েছে। এ উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অথচ স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনরোধে কাজ করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে চৌহালীর ভুতের মোড়, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকায় ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে এসব এলাকায় ভাঙন অনেকটাই কমে গেছে। অথচ জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়া দিচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি এ জেলায় সবে মাত্র যোগদান করেছেন। কয়েকদিন ধরে যমুনায় সামান্য করে পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে যমুনার তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙনকবলিত স্থানে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ওই এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।