সিরাজগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ফিরছে কৃষকের স্বচ্ছলতা

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষাবাদ ভালো হয়েছে। হাট-বাজারে কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির দাম ভালো থাকায় খুশি কৃষকেরা। বিশেষ করে কম খরচে এ চাষ করে লাভবান হওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ফিরছে স্বচ্ছলতা। এতে সবজি চাষে আগ্রহও বাড়ছে কৃষকদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।

তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশি চাষ হয়েছে। পাশাপাশি যমুনার চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করা হয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে কুমড়া, ঢেঁড়স, পটোল, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ডাঁটা, সিম, পালংশাক, বাঁধাকপি, বেগুন ও মুলা। প্রায় তিন মাস আগে এসব দেশি সবজির চাষ শুরু করেন কৃষকেরা। পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির চাষও শুরু করেছেন কৃষকেরা।

শস্যভান্ডারখ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা সবজি চাষ করে বেশি লাভবান হয়েছেন। এসব সবজির হাট-বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে সন্তুষ্টি।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমি বলেন, সিরাজগঞ্জের চলনবিলঘেঁষা এ উপজেলার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে প্রতিবছরই বেশি সবজি চাষ হয়। কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ চাষাবাদে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কম খরচে সবজি চাষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা অনেক লাভবান হয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রবল বৃষ্টিপাতে অনেক সবজির বাগান নষ্ট হয়েছে। এতে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কুমড়াসহ গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে তারা লাভবান হয়েছেন। ফলে কম খরচে লাভজনক এ সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

যমুনা নদীর তীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার চরাঞ্চলেও কুমড়া ও বিভিন্ন সবজির চাষ বেশি হয়েছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের পাশে ফাঁকা জায়গাতেও নানা ধরনের সবজি চাষ করা হচ্ছে।

রাজাপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাসান (৫৫) প্রায় ২৫ শতক জমি লিজ নিয়ে সেখানে গ্রীষ্মকালীন কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। প্রায় আড়াই মাস ধরে ওই জমি থেকে কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুরুতে প্রতিটি কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে কুমড়া চাষে ভালো লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বাজারে অন্যান্য সবজির দামও ভালো রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করে ইতোমধ্যে এলাকার অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরেছে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার কুমড়াসহ গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। এ চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ চাষে বেশি লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে সবজির বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি বলেও জানান তিনি।