হোসেনপুরে ১১০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩টিতে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদও শূন্য রয়েছে। ফলে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭৩টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে এবং ৭৩টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনোভাবে চালানো হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।

দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না হওয়া, সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি স্থগিত থাকা এবং শিক্ষকদের স্বাভাবিক অবসরজনিত কারণে একের পর এক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়া অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী অভিভাবক কমিটি না থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো কোনো সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব এবং কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজও করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত চাপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করায় নেতৃত্বের সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে নারাজ। আবার দায়িত্ব পালনকারীরাও অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রয়োজন বলেও তাঁরা জানান।

অভিভাবক সাইফুল, দুলাল ও খাইরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাও ঠিকভাবে বজায় থাকছে না। অনেক শিক্ষক সময়মতো বিদ্যালয়ে এলেও সঠিকভাবে পাঠদান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

তাঁরা আরও বলেন, অনেক বিদ্যালয়ে পাঁচ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। অথচ কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন।

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে দু-তিনজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। অন্য শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান বলেন, ‘এই উপজেলায় যোগদান করে দেখছি, অবসর, বদলি, মৃত্যু ও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্য পদের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও পদোন্নতির মাধ্যমে খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।