সিরাজগঞ্জে রেলপথ প্রকল্পে জমির মালিকদের ৫০০ কোটি টাকার চেক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ
এস.এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ-বগুড়া নতুন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের জমির মালিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে এম মনসুর আলী স্টেশন হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সিরাজগঞ্জ অংশে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনটি উপজেলার ৩৭টি মৌজার ৪২০ একর জমির মালিকদের ৪ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে কামারখন্দ উপজেলার চারটি, রায়গঞ্জের ১৯টি এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪টি মৌজার জমি এ রেলপথ প্রকল্পের আওতায় পড়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় কয়েক ধাপ অনুসরণ করে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এসব জমি অধিগ্রহণে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরে রেল মন্ত্রণালয় নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ৪২০ একর জমির ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য ক্ষতিপূরণ জমির মালিকদের পরিশোধের জন্য ১ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়।
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে সিরাজগঞ্জে এ পর্যন্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। তবে অনেক জমির মালিকের জমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও মামলা থাকায় ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। এসব জটিলতার নিরসন হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে প্রকল্পের জমির মালিকদের পাওনা ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. নিয়ামত আলী খান হিমেল তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, সরকারি বিধিমতে প্রকল্পের সিরাজগঞ্জ অংশে এ পর্যন্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ উল্লেখিত অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, বিশেষ করে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. নুর নাহার এ প্রকল্পের জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন।
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসৎ পথ অবলম্বনের অভিযোগে ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো অফিস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের অনেক জমির মালিকের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে নানা জটিলতা ও মামলা রয়েছে। এ কারণে তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে এসব জটিলতার নিরসন হলে ২০২৭ সালের শেষ দিকে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে।
