সিরাজগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক অচলাবস্থা নিরসনে খোলা চিঠি
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা, পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাব, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও চরম সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় দলের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও সংকট নিরসনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে খোলা চিঠি দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।
কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মাধ্যমে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। মির্জা মোস্তফা জামান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের ছেলে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৮ সদস্যের যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, দীর্ঘ সময়েও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি দিয়ে দল পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই জেলায় দুটি কমিটি বিদ্যমান থাকাকে সারাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নজিরবিহীন ও ক্ষতিকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দলকে সুসংগঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করতে চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
দাবিগুলো হলো—
১. পর্যালোচনা: সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা।
২. কমিটি পুনর্গঠন: প্রয়োজনবোধে বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা।
৩. নির্দিষ্ট সময়সীমা: কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা না করে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা।
৪. কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ: দলীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি নতুন আহ্বায়ক বা জেলা কমিটি গঠন করা।
৫. তৃণমূলের মূল্যায়ন: ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, মেধাবী, সক্রিয় ও ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
৬. স্বচ্ছতা ও মনিটরিং: ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রেখে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করা।
খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় সামনের সারিতে থেকে জেল-জুলুম ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তবে বর্তমানে একক নেতৃত্ব ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আধিপত্যের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
চিঠির শেষাংশে মির্জা মোস্তফা জামান উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত পদ-পদবির প্রত্যাশায় নয়, বরং সিরাজগঞ্জে বিএনপিকে গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ করতেই শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
জেলা বিএনপি পুনর্গঠনে এখন দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একটি কার্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
