দুর্গাপুরে ঝুপড়ি ঘরে মা-ছেলে, সরকারি সহায়তায় ঘরের আবেদন

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন প্রায় ১৫ বছর আগে। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় কামরুন্নাহারের একাকী সংগ্রাম। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। বড় ছেলে অভাবের কারণে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকেন। ছোট ছেলে নুরুজ্জামান (১৬) মাকে নিয়েই থাকেন একটি ঝুপড়ি ঘরে। মা-ছেলে দুজনই দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ফলে কামরুন্নাহারের জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করাও দিন দিন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের নেথপাড়া এলাকার দরিদ্র কামরুন্নাহারের এমনই মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র উঠে এসেছে তাঁর দেওয়া একটি লিখিত আবেদনে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামরুন্নাহারের বাবা তাঁকে বসতঘর নির্মাণের জন্য আট শতক জায়গা দিয়েছেন। কিন্তু নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই তাঁর। ফলে জায়গা থাকার পরও মাথা গোঁজার মতো একটি ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না। বর্তমানে মা-ছেলে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে এবং নড়বড়ে ঘরে বসবাস করা তাঁদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কামরুন্নাহার জানান, ঘরের আশায় তিনি এর আগেও একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনওর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে একটি ঘরের জন্য লিখিত আবেদন করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। ঘরের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেলে তাঁর পরিবারের মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কামরুন্নাহারের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মা-ছেলে দুজনই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি ছোট ঘর পেলে অন্তত তাঁদের নিরাপদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, অসহায় এই পরিবারটির বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আট শতক জায়গা থাকা সত্ত্বেও শুধু অর্থের অভাবে ঘর তুলতে না পারা কামরুন্নাহারের মতো অসহায় একটি পরিবারকে একটি ঘর দেওয়া হলে সেটিই হতে পারে তাঁদের দীর্ঘদিনের মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা।