দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১৮ অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, আর্থিক হিসাবের গরমিল, নিয়োগে বিধি না মানা এবং কলেজের একাডেমিক পরিবেশ অবনতির অভিযোগ তুলে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অভিযোগগুলোর প্রতিকার ও অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজের শিক্ষক মিলনায়তন হলরুমে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৩০ সেপ্টেম্বর, ১ অক্টোবর ও ৪ অক্টোবর কর্মবিরতি এবং পরবর্তী সময়ে মানববন্ধন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের কলেজের ক্যাশবহিতে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকার হিসাবের গরমিলের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কলেজের ডিগ্রি শাখাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ না নেওয়া, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া তিনজন শিক্ষককে ‘ওনার বাবা’র নামে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের স্টাফ কাউন্সিল গঠন না করা এবং দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার আয়োজন না করার মতো বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া কলেজের শ্রেণিকক্ষ, স্টাফ রুম ও হোস্টেলে পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকা এবং অধ্যক্ষের বাথরুম সংস্কার না করার অভিযোগও করেছেন শিক্ষকরা।
তাদের দাবি, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও পর্যাপ্ত সুবিধা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পরও নৈশপ্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং গত দুই মাসে কলেজে তিনবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, প্রতি বছর উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় প্রচার, পোস্টারিং ও হোমওয়ার্কের কাজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্বে করলেও ভর্তি কমিটি গঠনে দেরি করা হয়। অধ্যক্ষের স্বার্থ রক্ষায় গভর্নিং বডিতে নিজ কলেজের একজন শিক্ষককে প্রতিনিধি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া কলেজের ডিগ্রি শাখাকে এমপিওভুক্ত না করে কাম্যসংখ্যক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষের স্বজনের নামে কলেজকে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অস্বাস্থ্যকর করে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়মিত না এলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান পালনে অসহযোগিতা, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নথিভুক্ত না করা এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীরা আরও অভিযোগ করেছেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে কলেজের সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিবছর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসের গোলঘর ভাঙা ও ক্যাম্পাস পরিষ্কার করার ব্যবস্থা না করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে কলেজ হোস্টেল নির্মাণ ও কলেজ উন্নয়নে দেওয়া অনুদানের প্রচারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদারের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—এমনটাই দাবি করছেন কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকরা।
