টিকটকে প্রেম, স্বীকৃতির দাবিতে দামুড়হুদায় নারীর অনশন
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের চন্দ্রবাস গ্রামে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেছেন মাগুরা থেকে আসা এক সন্তানের জননী রাবেয়া (২৮)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে চন্দ্রবাস গ্রামের সামাদের ছেলে ও পেশায় চুলমিস্ত্রি সামিউল (২৭)-এর বাড়িতে তিনি এ অনশন শুরু করেন।
ভুক্তভোগী রাবেয়া জানান, সামিউলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে (TikTok) তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সামিউল তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়িতে আসার কথা বলেন।
কিন্তু সামিউলের কথামতো তার বাড়ি চন্দ্রবাস গ্রামে পৌঁছালে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। রাবেয়ার অভিযোগ, বাড়িতে আসার পর সামিউল ও তার মা তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো বেদম মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান। নির্যাতনকারীরা তার গলায় থাকা চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেন।
অনশনরত রাবেয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার সংসার চাই, স্বামীর অধিকার চাই। অধিকার না পেলে এখান থেকে আমার লাশ যাবে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গতকাল বুধবার সামিউল ও তার মা রাবেয়াকে নির্মমভাবে মারধর করছিলেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এসে বাধা দিলে রাবেয়ার প্রাণ রক্ষা পায়। অভিযুক্ত সামিউল ও তার মায়ের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সামিউল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। সামিউলের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সমাজসেবকরা উভয় পক্ষকে নিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
