স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে ফাতেমার আকুতি

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা ব্যুরো

“আমি একজন কন্যাসন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো পিতার কন্যা। আমি নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না। আমি বাঁচতে চাই।” ব্যাংকার স্বামী, ননদ ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এভাবেই কথাগুলো একনাগাড়ে বলছিলেন লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা ডি আলী স্কুল এলাকার আফতাব হোসেনের কন্যা ফাতেমা তুজ জোহরা।

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বামী, ননদ ও ভাসুরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

এ সময় তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “যৌতুকের টাকা দিয়েছি, বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তারপরও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারলাম না। এখন একমাত্র প্রতিবন্ধী শিশুসন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব?”

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক উত্তর হরিণটানা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মোতালেবের ছেলে মো. আলমগীরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর তাদের কোলজুড়ে আসে একটি কন্যাসন্তান। শিশুটি প্রতিবন্ধী।

বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তাকে জনতা ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন বলে দাবি করেন ফাতেমা। এরপর ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করে স্বামীর নামে থাকা জমির ওপর একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা পাঁচ লাখ টাকা স্বামীর নামে এফডিআর করে দেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এর মধ্যে ভাসুর মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলমের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। তিনি প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন ননদ হাসনা হেনা। তারা তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন।

একপর্যায়ে তার ঔরসজাত সন্তানকে নিয়েও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হতে থাকে বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা। পরে স্বামী ওই আসামিদের পরামর্শে তার কাছে যৌতুক দাবি করে অমানুষিক নির্যাতন করেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন বলেও জানান তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, তারা জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে অন্যান্যদের সহযোগিতায় স্বামী আলমগীর তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এতে তার অনাগত একটি সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। আসামিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।

এরপর থেকে অভিযুক্তরা তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন ফাতেমা।

এদিকে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাজী অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।