লিভার প্রতিস্থাপন না হলে ঝুঁকিতে ৬ মাসের ওয়াফার জীবন

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

মাত্র ৬ মাসের ছোট্ট মেহেভীন ইবনাত ওয়াফা। পৃথিবীর আলো দেখার পর যে বয়সে মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে থাকার কথা, সেই বয়সেই জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছে শিশুটি।

শরীর ও চোখ হলুদ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে পেট। ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ, পুষ্টি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ও চেয়ারম্যান ডা. মো. রোকুনুজ্জামান জানিয়েছেন, ওয়াফার জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন লিভার প্রতিস্থাপন। আর সন্তানকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দিতেও প্রস্তুত মা মরিয়ম আক্তার প্রীতি। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ।

কুমিল্লার লাকসাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শিমুল মজুমদারের কাছে ওয়াফার শরীরে বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া রোগ ধরা পড়লে তিনি প্রফেসর ডা. রোকুনুজ্জামানের কাছে রেফার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চললেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওয়াফাকে বাঁচাতে লিভার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এজন্য তাকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। সেখানে চিকিৎসা ও লিভার প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

এই বিপুল অর্থের কথা শুনে দিশেহারা পরিবারটি। মেয়ের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে জমাকৃত ও ঋণ নেওয়া অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়ে গেছে। এখন নতুন করে এত টাকা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

বর্তমানে ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ, পুষ্টি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ও চেয়ারম্যান ডা. মো. রোকুনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ওয়াফার চিকিৎসা চলছে।

ওয়াফার বাবা মহাসিন নাঙ্গলকোট উপজেলার উত্তর রায়কোট ইউনিয়নের চারজানিয়া গ্রামের পেয়ার আহমেদের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে কিছুদিন আগে তিনি দুবাই পাড়ি জমিয়েছেন।

অন্যদিকে ওয়াফার মা মরিয়ম আক্তার প্রীতি একজন গৃহিণী। একদিকে সন্তানের অসুস্থতা, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।

সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে প্রীতি বলেন, “সন্তানকে বাঁচাতে আমি নিজের লিভারের অংশ দিতে চাই। চিকিৎসকেরা বলেছেন, লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এত টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। সবাই সামান্য করে সহযোগিতা করলে হয়তো আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারব।”

মায়ের এই আকুতি এখন পৌঁছাতে চায় দেশের মানুষের কাছে। কারও সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি সহযোগিতাও হতে পারে ওয়াফার চিকিৎসার পথে বড় সহায়তা।

একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের স্বপ্ন, একটি পরিবারের শেষ আশা—মানবিক মানুষের সহযোগিতায় হয়তো বেঁচে উঠতে পারে ছোট্ট ওয়াফা।