কাউখালীতে গৃহবধূর পোশাক বিহীন মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে নিজ ঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের পেছনের দরজা খোলা এবং ভেতরে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নিহত জেসমিন বেগম একই গ্রামের মৃত আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একজন অটোরিকশাচালকের মাধ্যমে মোবাইলের মিনিট কার্ড কিনে বাড়িতে ফেরেন জেসমিন। পরে রাতে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। রোববার সকালে স্বজনেরা জানতে পারেন, বাড়ির পেছনের দরজা খোলা রয়েছে। খবর পেয়ে জেসমিনের বাবা আফজাল খানসহ স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে পেছনের ও ছাদের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান।

তারা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, আলমারি ও ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। জেসমিনকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের সামনের দিকে গেলে ঐ কক্ষে তার মরদেহ কাপড় বিহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের মেঝে ভেজা এবং সেখানে পানি ঢালা অবস্থায় ছিল বলে স্বজনেরা জানান।

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল  ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন স্থানের ছবি ধারণ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর জেসমিন বেগম পিরোজপুরের মানিক নামের এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। তবে কিছুদিন ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে স্থানীয় শত শত মানুষ ভিড় করেন। এ সময় নিহতের মা-বাবা, বোন ও স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

কাউখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণ বা গণধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা সম্ভব হবে।