ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীসেবা নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের একটি কক্ষকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন ও রোগীসেবায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা আলোচনা এবং রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ‘পাবনা জনপদ’ নামে সিল মারা একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন রোগী অভিযোগ করে বলছেন, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের ১১০ নম্বর কক্ষে রোগীদের চিকিৎসাসেবা বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমের ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

ওই রোগী অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে অনেক নারী সেখানে বসে আছেন। অথচ ক্লিনিকের দালাল ক্লিনিক থেকে রক্ত নিয়ে এসে এখানে জমা দেন। অর্থের বিনিময়ে তাদের কাজ আগে করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সেবাগ্রহীতা নারীরা সেখানে অসহায় অবস্থায় বসে থাকলেও কোনো সেবা পাচ্ছেন না।

ভিডিওতে ওই রোগী আরও অভিযোগ করেন, দুপুর ১টার দিকে কক্ষ পরিষ্কার করা হয়। তখন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে যায়। এ সময় রোগীদের কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় এবং দায়িত্ব শেষ করে কক্ষ বন্ধ করে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝাড়ু দেওয়ার পর ময়লা ঝুড়িতে না রেখে বাইরে ফেলে রাখা হয়।

তিনি প্রশ্ন করেন, এসব রোগী কি অসহায় এবং হাসপাতাল কি অসহায় মানুষের জায়গা নয়? এ সময় তিনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করলে উপস্থিত অন্যান্য রোগীও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। ওই রোগী দাবি করেন, তাঁর চোখের সামনে অর্থ লেনদেন হয়েছে।

ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজনকেও অভিযোগ করতে দেখা যায়। তারা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দালালের উৎপাত বেশি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি গতকাল দুপুরের দিকের ঘটনা। এক সপ্তাহ আগে একজন আনসার সদস্য একজন রোগী ধরা দালালকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলায় ওই দালাল ক্ষুব্ধ হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটের কাছে ওই আনসার সদস্যকে হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন।”

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে দালালদের দূর করার সহযোগিতার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে জানানো হয়েছে।

ডা. শোভন রায় বলেন, “গতকাল দুপুরের যে ভিডিওটি আমি দেখলাম, এখানে যারা প্যাথলজিতে কর্মরত আছেন—টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্ট, আয়া ও সুইপার—তাদের সবার সঙ্গে আমি আরেকবার কথা বলে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করব। যদি এখানে কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”