দুর্গাপুরে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেপ্তার ১
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার বালিকান্দি গ্রামে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মো. কাশেম মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আবুল কাশেম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বালিকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে রাতের খাবারের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে গেলে কাশেম ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে কিশোরী হাঁটতে পারছিল না। পরদিন প্রতিবেশী এক ভাবীর কাছে বিষয়টি খুলে বলে ভুক্তভোগী।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করে।
স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং কিশোরীর পরিবারকে মুখ না খুলতে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ভয়ে কিশোরীর বাবা থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাননি। ঘটনা জানাজানি হলে মেয়েকে বিয়ে দিতে অসুবিধা হবে—এমন কথা বলে মাতব্বররা পরিবারটিকে চাপ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাশেম মিয়ার কোনো সন্তান নেই। দীর্ঘদিন আগে বিয়ে করলেও তাদের সন্তান হয়নি। তার স্ত্রীও ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনে শিশুটিকে তার স্বামীর স্ত্রী হিসেবে গড়ে তুলবেন—এমন কথাও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী কয়েকজন নারী কাশেম মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, কিশোরীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এবং বৃদ্ধ মাকে সঙ্গে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির।
ঘটনার বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
