স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের তুলে ধরার আহ্বান বুলুর
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্যা বুলু বলেছেন, “আমি বড় গলায় বলতে পারি, আওয়ামী লীগের এমন কোনো ব্যক্তি নেই—যিনি বাংলাদেশের একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।”
তিনি বলেন, স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য গত সত্তর বছর বিকৃত করা হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা কে করেছেন, সে বিষয়ে সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জে কে মডেল স্কুলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, দুই শিক্ষকের বিদায় এবং রুহুল আমিন কাতুমিয়া স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেড়শ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এ সময় শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বরকত উল্যা বুলু বলেন, “আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে হলে আগে আলোকিত মানুষ তৈরি করতে হবে। আর আলোকিত মানুষ তৈরির কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে শিক্ষকদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক নিয়োগে কোনো দলীয় বিবেচনা করা হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।” মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আগামী বাংলাদেশ গড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন বুলু।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক জ্ঞান, নৈতিকতা ও শিক্ষার ভিত্তিতে হওয়া উচিত উল্লেখ করে বরকত উল্যা বুলু বলেন, কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের ওপর নির্ভর করে পদ-পদবি বা প্রশাসনিক সুবিধা অর্জন করেন, তাহলে সেখানে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের দিয়ে বদলি করান। এ কারণে ছাত্ররা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিতে একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে নিয়োগ, টেন্ডার, উন্নয়নকাজ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবের মাধ্যমে টেন্ডার বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বুলু আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের জায়গা নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতিষ্ঠান। তাই নিয়োগ থেকে শুরু করে উন্নয়নকাজ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
জে কে মডেল স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি মোরশেদুল আমিন ফয়সলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী (১৯৬৭-৬৮) সামীমা বরকত লাকী, কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, নাজমুল গনি মান্না, জহির উদ্দিন হারুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাজিব উদ্দিন রাজিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীয়ত উল্যা, বৃত্তি পরীক্ষা কমিটির সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টার, স্কুল কমিটির সহসভাপতি ধনু মিয়া, আহসান উল্যা, শিক্ষিকা মিসেস আহসান, রুস্তম আলী ও নজরুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ।
পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
