কাউখালীতে আকর্ষণীয় মোড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

শিশুদের হাতে হাতে চিপস, চকলেট, রঙিন জুস কিংবা ক্রিম বিস্কুট। অথচ এসব খাবারের কোনো কোনো প্যাকেটের গায়ে নেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। আবার কিছু পণ্যের মান ও অনুমোদন নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানে এমন অনুমোদনহীন, নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
আকর্ষণীয় মোড়ক, বাহারি রং ও কম দামের কারণে সহজেই এসব খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে শিশুরা। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামীণ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় মুদি দোকান ও বিভিন্ন খাবারের দোকানে বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, চকলেট, কোমল পানীয়, বিভিন্ন রঙের জুস, দুধের নামে বাজারজাত করা কৃত্রিম পানীয়, আইসক্রিম, ক্রিম বিস্কুট, দই ও মিষ্টিসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে।
এসব পণ্যের মধ্যে কিছু প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদান ও প্রয়োজনীয় তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, কোনো কোনো দোকানে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্যও বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কিছু পণ্যের মোড়ক বা লেবেল দেখে সেগুলোর অনুমোদন ও মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য নতুন মোড়কে বাজারজাত করছেন। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া সব পণ্যই অননুমোদিত বা ভেজাল—এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা যায় না। কোন পণ্য মানসম্মত, কোনটি অনুমোদিত এবং কোনটি মেয়াদোত্তীর্ণ—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। দেখার যেন কেউ নেই। নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেয়ে আমাদের সন্তানেরা অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, নিম্নমানের উপাদান, অনিরাপদ কৃত্রিম রং ও অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও দূষিত খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মান যাচাই ও বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে।
