দামুড়হুদায় প্রেমফাঁদে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তরুণীর বিরুদ্ধে
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ী রেজাউল করিম সবুজের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রজনী খাতুন (২৪) নামে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে তা অস্বীকার করেন ওই তরুণী।
এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেছেন রেজাউল করিম সবুজ। মামলাটি তদন্তের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, রজনী খাতুন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের দশমীপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শহিদ আলী বাবু। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম সবুজ কুমিল্লা জেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের হাজী এলাকার মৃত নুর আহাম্মদ আলীর ছেলে এবং ব্যবসায়ী।
যেভাবে পরিচয় ও সম্পর্ক
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম সবুজ জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে রজনী খাতুনের সঙ্গে একটি রং নম্বরের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। শুরুতে মুঠোফোনে মাঝে মধ্যে কথা বললেও একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে দুজনের সামনাসামনি সাক্ষাৎ হয়। রজনী দামুড়হুদা থেকে কুমিল্লায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন বলেও জানান তিনি।
সবুজের দাবি, এরপর মুঠোফোনে নিয়মিত কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্তও নেন।
এরই মধ্যে রজনী বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের নানা সমস্যা ও নিজের চিকিৎসার কথা জানিয়ে তার কাছে টাকা চাইতে থাকেন। একটি ছোট অপারেশনের কথা বলে প্রথমে টাকা চাওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন সবুজ।
ভুক্তভোগীর দাবি, রজনীর পরিবারের জমি বিক্রি হলে তার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে তিনি বিভিন্ন সময়ে ধার হিসেবে টাকা দিয়ে যান।
টাকা ফেরত চাইতেই সম্পর্ক অস্বীকারের অভিযোগ
রেজাউল করিম সবুজ জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে রজনীর কাছে ৫০ হাজার টাকা ফেরত চান তিনি। তখন রজনী কোনো টাকা দিতে পারবেন না বলে জানান। পরে ফের টাকা চাইলে ‘কিসের টাকা, কোনো টাকাই নেয়নি’ বলে রজনী জবাব দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবুজের দাবি, রজনীর আচরণে পরিবর্তন দেখে তিনি প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর রজনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আগের মতো ফোন রিসিভ করতেন না তিনি। ফোন ধরলেও উল্টো-পাল্টা আচরণ করতেন বলে অভিযোগ করেন সবুজ।
পরে রেজাউল করিম সবুজ সরাসরি দামুড়হুদার দশমীপাড়ায় রজনীদের বাড়িতে যান। সেখানে রজনী তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং অন্যথায় লোকজন ডেকে মারধরের ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে অভিযোগ জানার দাবি
ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টির নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি রজনীর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারেন। তার দাবি, এর আগে মহেশপুরের এক ব্যক্তির সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ওই তরুণী মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তিনি জানতে পারেন।
পরবর্তীতে তিনি দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলীর কাছে বিষয়টি নিয়ে বিচার দেন। তবে সেখানেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানান সবুজ।
তিনি আরও বলেন, পরে শেষবারের মতো রজনীর বাড়িতে গিয়ে তার কাছে টাকা ফেরত চান। এ সময় রজনী তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া টাকা দাবি করে বিষয়টি কাউকে জানালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রেজাউল করিম সবুজ।
অভিযুক্ত রজনীর বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে রজনী খাতুন ও তার মা শাহানাজ বেগমের সঙ্গে কথা হলে তারা রেজাউল করিম সবুজের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রথমে পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
তবে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ এজেন্ট নম্বরের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রজনী তা স্বীকার করে বলেন, রেজাউল করিম সবুজের সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে তার বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে টাকার পরিমাণ খুবই অল্প—মাঝে মধ্যে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতখরচের জন্য পাঠাতেন বলে দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
এ বিষয়ে দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’
