সাটুরিয়ায় ৮১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত প্রশাসন
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কাদামাটি, খড়, বাঁশ ও সুতলির কাজ শেষে এখন রং-তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিজনদের প্রতিমা।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সূচি অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
সনাতন শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়।
সাটুরিয়ার বিভিন্ন মন্দির ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ-খড় দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর কাদামাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ শেষে এখন চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ।
প্রতিমা কারিগর বাসুদেব পাল জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপ্রতিমা সেটের কাজ শেষ করতে প্রায় দুই মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। এবার তিনি সাতটি মণ্ডপের কাজ নিয়েছেন, যার মধ্যে চারটির কাজ শেষ হয়েছে।
তবে আক্ষেপ প্রকাশ করে রাজন পালসহ অন্য কারিগররা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও কাঁচামালের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পূজা কমিটির বাজেট ও তাদের মজুরি বাড়েনি। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে লভ্যাংশ খুব একটা থাকছে না।
এদিকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত ‘চিন্ময়ী সংঘ’ মন্দিরের স্থানীয় দর্শনার্থী গোলক ঘোষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলেন, কারিগর রাজন পালের প্রতিমার কারুকাজ ও রূপ এত সুন্দর হচ্ছে যে, এতে যত খরচই হোক না কেন কোনো আক্ষেপ থাকবে না। আশা করছি, এবার বালিয়াটি ইউনিয়নে আমাদের মন্দিরের প্রতিমাই সেরা হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদ্যোৎ কুমার ঘোষ অ্যাপোলো বলেন, এবার সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৮১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বালিয়াটিতে ১৯টি, ধানকোড়ায় ১৪টি, সাটুরিয়ায় ১৩টি, দরগ্রামে ১২টি, তিল্লিতে ৯টি, বড়াইদে ৭টি, দিঘুলিয়ায় ৩টি, হরগজে ২টি এবং ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে আয়োজন চলছে।
সাটুরিয়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রফিয়া খাতুন জানান, নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সমন্বয় সভা শেষে প্রতিটি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধির হাতে ৬০০ কেজি করে সরকারি চালের বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের কর্তৃপক্ষ ও আমাদের অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, শান্তিপ্রিয় সাটুরিয়াবাসী আনন্দ ও উৎসবের সঙ্গে দুর্গাপূজা পালন করতে পারবেন।
