কেরুর ‘সোনার দানা’ জৈব সারে স্বস্তি চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বাজারে রাসায়নিক সারের সংকট, মিলছে না চাহিদামতো সার; আবার পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এমন পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের কাছে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত জৈব সার। মাত্র ৯০০ টাকা দামের ৫০ কেজির এক বস্তা ‘সোনার দানা’ ব্যবহার করে কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে রাসায়নিক সারের সংকটে চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের অনেকটা নির্ভর করতে হচ্ছে বিকল্প উৎসের ওপর। কৃষি বিভাগের পরামর্শও রয়েছে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের। এ অবস্থায় কেরুর উৎপাদিত জৈব সার কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চিনিকলে আখ মাড়াইয়ের পর পাওয়া প্রেসমাড আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে ‘সোনার দানা’ নামে এ জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এটি মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির অণুজীবের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে।
মিল গেটে এক কেজি জৈব সার ২৩ টাকা এবং ৫০ কেজির বস্তা ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, বর্তমানে বছরে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছর আরও প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের কৃষক সেন্টু মিয়া বলেন, ‘রাসায়নিক সার কিনতে এক বস্তায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সেখানে কেরুর জৈব সার ৯০০ টাকা। প্রতি বিঘায় দুই বস্তা দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ছয়ঘড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ মাস্টার বলেন, রাসায়নিক সারের পাশাপাশি কেরুর জৈব সার ব্যবহারে চাষাবাদের খরচ কমেছে। জমিতে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ফলনও ভালো হচ্ছে।
দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, কেরুর জৈব সার সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের জৈব সার সরবরাহের লক্ষ্যেই এর উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। রাসায়নিক সারের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কেরুর জৈব সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।
এদিকে কৃষকরা বলছেন, সার সংকট মোকাবিলায় কেরুর জৈব সারের উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বাড়ানো হলে একদিকে চাষাবাদের খরচ কমবে, অন্যদিকে মাটির স্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, মাটির উৎপাদন ক্ষমতা ধরে রাখতে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে রাসায়নিক সারের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণও টেকসই থাকবে।
