বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটির ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি গত সোমবার সকালে এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি মঙ্গলবার বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই বন্ধ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে কোনো ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।
প্রায় সাত বছর ধরে ২ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ইউনিটটি মেরামতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এরপর ১ নম্বর ইউনিটটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছিল। সেটিও সোমবার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি সংস্কারে চীনের হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কবে নাগাদ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাননি।
এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হতো।
অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এই ইউনিটে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হতো।
গত ১ নভেম্বর থেকে প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ মে ৩ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে যায়। ইউনিটটি মেরামতে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২ নম্বর ইউনিটটি পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি মেরামতের প্রয়োজন মনে করছে না বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিটটি মেরামতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, সেই অর্থ দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মাণ করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনা কোম্পানি সস্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এবং ইউনিটগুলো সঠিকভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করায় দেশীয় প্রকৌশলীরা ইউনিটগুলো সচল রাখতে পারছেন না। এতে প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেছনে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বছরে বিভিন্ন সময়ে ইউনিট দুটি বিকল হয়ে পড়ছে।
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে আমন মৌসুম চলছে। আমন মৌসুম শেষে ইরি-বোরো মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। আগামী বোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা না গেলে উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার ভারী শিল্পকারখানা ও কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে আটটি জেলায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এসব এলাকার উৎপাদনশীল শিল্পকারখানা। বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো সচল করতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছা দিতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এখানে আমার করার কিছু নাই, তবে দুটি ইউনিট চালু করার বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
