
মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠন, শরীরচর্চায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিশ্বদরবারে রায়পুরাকে নতুনভাবে পরিচিত করার প্রত্যয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যারাথন। উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে বর্ণিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন। দৌড়বিদদের উৎসাহ দিতে সড়কের দুই পাশে উপস্থিত ছিলেন হাজারো নারী-পুরুষ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে রেললাইন-সংলগ্ন সড়ক ধরে আরশিনগর পর্যন্ত এ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এবারের ম্যারাথনে চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো—৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন, ২৫ কিলোমিটার রেস, ১০ কিলোমিটার রেস এবং এক কিলোমিটার ফ্যামিলি রেস। এর মধ্যে ফ্যামিলি রেসে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়। এর মাধ্যমে সব বয়সী মানুষকে খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ম্যারাথনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নির্মূলে তরুণ সমাজকে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। নিজেরা সুস্থ থাকার পাশাপাশি একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, এবারের ম্যারাথন সারা দেশের মধ্যে একটি বড় আয়োজন। প্রতিবছর এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রায়পুরা ম্যারাথন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত একটি ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত হবে।
তিনি আরও জানান, ক্রীড়ার সঙ্গে মানবিক কল্যাণকে যুক্ত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আয়োজনটি আরও বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে মেঘনা নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এবারের রায়পুরা ম্যারাথনের অন্যতম বিশেষ দিক হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা। আয়োজকদের চ্যারিটি পার্টনার হিসেবে রয়েছে অরফান লাভ ফাউন্ডেশন। ম্যারাথনের নিবন্ধন ফি-এর একটি অংশ এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা হবে। এ উদ্যোগের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনেক দৌড়বিদ অতিরিক্ত ফি দিয়েও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে রায়পুরায় সুস্থ ও ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে দৌড়বিদদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রায়পুরার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়বে।