২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর আশা ত্রাণমন্ত্রীর

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রিয় রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তার মতে, আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ।

তিনি বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল। তার আত্মদানের পাশাপাশি সারা দেশের অনেক তরুণ, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ পথ দিয়ে যারা চলাচল করবেন, তারা গেটটি দেখে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকার সনদটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে এবং সেখানে বিরোধী পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বড় প্রকল্প এক দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ জন্য জরিপ ও নকশা প্রণয়নসহ বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে অগ্রগতি আসবে।

রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়েছে। কোনো অঞ্চলকে বৈষম্যের মধ্যে রাখতে চায় না সরকার। রংপুরের কৃষি, জমি ও শ্রমের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সারা দেশের একটি সামাজিক সমস্যা। বিশেষ করে তরুণেরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট আধুনিক বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কয়েকটি নতুন বিষয় চালু করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

এ সময় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর মন্ত্রী রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মরহুম আনিসুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেন।