দেবহাটার ২১ পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি সম্পন্ন, বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০১ | অনলাইন সংস্করণ
দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ২১টি মন্দিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা ও থানা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।
ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিমা শিল্পীদের তুলির শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চলছে নানা আয়োজন।
আগামী ১৫ অক্টোবর বোধন ও ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের বাহন এবং এর ফলাফল নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রথা প্রচলিত রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটক বা ঘোড়ায় এবং প্রস্থান হবে নৌকায়।
শাস্ত্রমতে, ঘোড়ায় দেবীর আগমন ছত্রভঙ্গ বা সামাজিক অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, নৌকায় দেবীর গমন শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি তথা সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে এবার ২১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। এর মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়নে সাতটি, পারুলিয়া ইউনিয়নে সাতটি, সখিপুর ইউনিয়নে দুটি, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে একটি এবং দেবহাটা সদর ইউনিয়নে চারটি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
কুলিয়া ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলো হলো—বহেরা দুর্গাপূজামণ্ডপ, কুলিয়া ঘোষপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপ, শ্যামনগর পশ্চিমপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপ, বালিয়াডাঙ্গা দুর্গাপূজামণ্ডপ, হিজলডাঙ্গা দুর্গাপূজামণ্ডপ, শ্যামনগর পূর্বপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপ ও সুবর্ণাবাদ দুর্গাপূজামণ্ডপ।
পারুলিয়া ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলো হলো—সন্ন্যাসখোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ, উত্তর পারুলিয়া চারা বটতলা দুর্গাপূজামণ্ডপ, দক্ষিণ পারুলিয়া জেলেপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপ, নোড়ারচক দুর্গাপূজামণ্ডপ, বড়শান্তা দুর্গাপূজামণ্ডপ, মাঝ পারুলিয়া দুর্গাপূজামণ্ডপ ও উত্তর কোমরপুর দুর্গাপূজামণ্ডপ।
সখিপুর ইউনিয়নের পালপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপ ও কোড়াঁ পাকড়াতলা দুর্গাপূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরহাট দুর্গাপূজামণ্ডপে এবং দেবহাটা সদর ইউনিয়নের ফুটবল মাঠ দুর্গাপূজামণ্ডপ, দেবহাটা বাজার দুর্গাপূজামণ্ডপ, টাউনশ্রীপুর দুর্গাপূজামণ্ডপ ও টাউনশ্রীপুর পালপাড়া দুর্গাপূজামণ্ডপে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমা শিল্পীরা জানান, নিখুঁত প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্গাপূজা সামনে রেখে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলোকে জীবন্ত করে তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পূজা উদযাপনের জন্য দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দকে পৃথকভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, দুর্গাপূজা সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উপজেলার তিন থেকে চারটি মণ্ডপে জনসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেখানে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ৫ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন এবং ৯ অক্টোবর থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করা হয়েছে।
দেবহাটা ফুটবল মাঠ মন্দির কমিটির সভাপতি দিপঙ্কর ঘোষ জানান, এ বছর পূজা উদযাপনে সরকারি বরাদ্দ বেশি পাওয়া গেছে। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা খুশি।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা করে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল, কন্ট্রোল রুম ও মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তবে বিজয়া দশমীর দিনে আয়োজিত মিলনমেলা উদযাপনে নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
