দলকে সুবিধাবাদীদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৯ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দল ক্ষমতায় গেলে নিবেদিত নেতাকর্মীরা হারিয়ে যান, আর হাইব্রিডদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ সময় খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুক—এমন পরিচয়ে সুপারিশ নিয়ে আসার প্রবণতাও বাড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরপিডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, ‘এখানে নানা ধরনের অসংগতি তৈরি হয়। এটি যে শুধু রংপুরে হচ্ছে, তা নয়; গোটা বাংলাদেশেই হয়। যখন দল ক্ষমতায় যায়, তখন নিবেদিত অনেক কর্মী আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। হাইব্রিডদের আনাগোনা বেশি হয়। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা যেন সজাগ থাকি।’
তিনি বলেন, ‘এই সুবিধাবাদী চরিত্রের লোকেরা এখন দলকে ব্যবহার করবে। আবার দল যদি কোনো কারণে বিপদগ্রস্ত হয়, এদের আর দেখা পাওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে শুধু নেতৃবৃন্দ নয়, আপনাদেরও সজাগ থাকতে হবে। কেন থাকতে হবে? কারণ, অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই কিন্তু নানা দরবার ও তদবির নিয়ে যান। এমন লোককে নিয়ে আসেন, যাকে আমি ১৭ বছর রাজপথে দেখিনি, চিনি না, জানি না। পরিচয় দেন, “আমার খালাতো ভাইয়ের ছোট ঘরের অমুক হয় আমার।” এগুলো থেকে আপনাদেরও একটু সজাগ থাকতে হবে। আজকে তারা হয়তো আমাদের ঘিরে ফেলেছে। এই ১৭ বছর একটা জঞ্জাল ও বৈষম্য থাকার কারণে মানুষের আকাঙ্ক্ষা আছে, থাকবেই। কিন্তু এটা বেশি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজের কথা না বলে অন্যের সুপারিশ নিয়ে যাচ্ছেন। সেগুলো থেকে আপনারা সজাগ থাকবেন। যখন আমরা শুনতে না চাই, তখন বলেন, “ভাই, আমি একটা সুপারিশ নিয়ে আসলাম, আপনি শুনলেন না?” আমি বলি, “না, তোমার কথা বলো, নিজের কথা বলো আগে।” এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মসূচি কিছুটা কমে গেছে উল্লেখ করে দুলু বলেন, ‘দল যখন ক্ষমতায় যায়, তখন দলের ভেতরে রাজনৈতিক কর্মসূচিটা কিছুটা হলেও কমে গেছে এই কিছুদিন যাবত। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পার্টির চেয়ারম্যান কিছু কর্মসূচি দিয়েছেন। ৭ নভেম্বর উপলক্ষেও কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। সামনে আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব রয়েছে। সেখানেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা হয়তো শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে, উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সভা করব।’
দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘এই পূজা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। এই ফ্যাসিস্টরা নানাভাবে চেষ্টা করে কীভাবে যাবে। কখনো বিদ্যুৎ নিয়ে আসে, কখনো পেট্রোল-জ্বালানি নিয়ে আসে, কখনো হয়তো অটোরিকশা নিয়ে আসে, কখনো পূজার কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করে। আমরা যেন সবাই নিজ দায়িত্বে স্বশরীরে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে তাদের সহযোগিতা করি।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মন্দিরে আমরা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছি। গত ১০ বছরে যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে আমাদের মন্ত্রণালয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকেও যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। সেটা বড় বিষয় নয়। আমরা চাই, পূজাটি যেন তারা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারেন।’
এর আগে মরহুম আনিছুর রহমান লাকুর স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হয়।
