সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধে বিকেল হলেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ
এস. এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীরবর্তী চায়না বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে নানা বয়সী মানুষের অন্যরকম আড্ডা জমে উঠেছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে এসব স্থান পরিণত হয় ‘প্রেম নগরে’। এসব স্থানে মুখরোচক খাবার বিক্রি করে ইতোমধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে ফুটপাতের অনেক দোকানির।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যমুনার তীরবর্তী হার্ডপয়েন্ট, পৌর শিশু পার্ক ও ৩ নম্বর চায়না বাঁধ এলাকায় প্রায় দিনভর নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমে। দর্শনীয় এসব স্থানে আড্ডা দিতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাগুলো যেন প্রেম নগরে পরিণত হয়। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড় লক্ষণীয়।
এ সময় অনেকেই আনন্দঘন মুহূর্তের স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তোলেন। যমুনার চর ও বাঁধ এলাকায় কাশফুলের সৌন্দর্যকে সাক্ষী রেখে একে অপরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমনকি নতুন প্রেমের সূচনাতেও যমুনার মনোরম দৃশ্যকে সাক্ষী রাখেন অনেকে।
এসব আড্ডা ও নানা কর্মকাণ্ডে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে এসব দর্শনীয় স্থানে সময় কাটায়।
এসব স্থানের ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি, ঝালমুড়ি, বাদাম, ছোলা, আইসক্রিম, চা, কফি, পিৎজা ও লেবুর শরবতসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান। পাশাপাশি রয়েছে বিয়ের আসর, নাগরদোলা এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা।
ফুটপাতের এসব খাবারের দোকানে প্রেমিক-প্রেমিকাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় জমে। দোকানিরা জানান, প্রতিদিন কমবেশি বেচাকেনা হয়। তবে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বিক্রি তুলনামূলক বেশি থাকে। যমুনা নদীর পাড়ের এসব ফুটপাতকেন্দ্রিক ব্যবসার মাধ্যমে অনেক দোকানির আর্থিক স্বচ্ছলতাও ফিরে এসেছে।
এদিকে, স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা উল্লেখিত স্থানে আড্ডাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্তও সেখানে আড্ডা দেয় বলে জানা গেছে।
এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ উল্লেখিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে কাশফুলের ভেতরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন বিষয় দেখতে পেয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, আরও আগে পুলিশের এ ধরনের অভিযান শুরু হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা খুশি হতেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও বাড়ত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চায়না বাঁধসহ এসব স্থানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
