মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বাজার ও ড্রেন

কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালে ভর্তি ১৬ জন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ঘরে ঘরে জ্বরের পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।এছাড়াও অনেকে পার্শ্ববর্তী রাজাপুর, পিরোজপুর, নেছারাবাদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে  জানা গেছে। যে কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঠিক হিসাব  না মিললেও  প্রত্যেক এলাকায় মহল্লায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী আছে  জানা গেছে। 

রোববার সকালে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই কক্ষে সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার চিত্রও দেখা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভেতরে রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক রোগী মশারি ব্যবহার করছেন না। এতে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশার মাধ্যমে হাসপাতালের অন্য রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় ধীরে ধীরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল পরিষ্কার রাখলেই হবে না; উপজেলা, হাট-বাজার, ঘাট, অফিস চত্বর  ও আবাসিক এলাকার আশপাশও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ চত্বর,  দক্ষিণ বাজার ও উত্তর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। অনেক ড্রেনে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও নোংরা পানি। কোথাও কোথাও ড্রেনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। জনবহুল এসব স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ডা. সুব্রত কর্মকার আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এদিকে, গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের কাউখালী উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাগজে-কলমে ও ব্যানারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা থাকলেও বাস্তবে 

বিভিন্ন স্থান ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে, এমনকি উপজেলা পরিষদ ভবনের সিঁড়ির নিচেও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ড্রেন ও নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেখানে পানি জমে থাকছে। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত বাজার, ড্রেন, নর্দমা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।