দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় রংপুর মহানগর পুলিশের মতবিনিময় সভা
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদযাপন এবং রংপুর মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আরপিএমপি পুলিশ কমিশনার মুঃ মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব কমিটি-২০২৬ রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায় ও সদস্য সচিব শ্রী বিপ্লব রায়সহ বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ও সদস্যরা।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহানগরীর পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং পূজা উদযাপনকালে সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল তার বক্তব্যে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, রংপুরের পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব রংপুর মহানগরীতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু তার বক্তব্যে বলেন, সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা ও নীতিমালার আলোকে এ উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংবেদনশীলতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মুঃ মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানা, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সন্দেহজনক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ধারণ করা ভিডিও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরপিএমপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পূজাকালীন যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
সভা শেষে পুলিশ কমিশনার মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাইকে মূল্যবান মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে পূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
