লালমনিরহাটে বিদ্যালয়ে হামলা, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ১৪
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সরলখা উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলায় প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলাম ও ১৩ শিক্ষার্থীসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে প্রতিপক্ষ ও বহিরাগতদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা মারধর ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলামকে জোরপূর্বক বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক পুনরায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে প্রতিপক্ষ ও বহিরাগতদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হামলায় প্রধান শিক্ষক ও ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন।
আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে এবং তিন শিক্ষার্থীকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত আরও চার থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি প্রধান শিক্ষক রশিদুল ইসলাম জানান, ছাত্র আন্দোলনের পর তাকে কোনো কারণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন। এ সময় বহিরাগতরা বাধা দিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
তিনি বলেন, পরে শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের মোবাইল টিম পাঠানো হয়। পরে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
