
রংপুর রেঞ্জ পুলিশের সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সার্বিক কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নীলফামারী জেলা পুলিশকে রংপুর রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বিপিএম।
সভা শেষে নীলফামারী জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন।
সভায় রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন আটটি জেলার সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ বিভিন্ন পুলিশি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
ডিআইজি পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন এবং মামলার তদন্তে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পেশাদারিত্ব থেকে আমরা বের হয়ে গেছি, আমাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।” এ সময় মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৭৪৪ মামলা
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর রেঞ্জে মোট ১ হাজার ৭৪৪টি মামলা রুজু এবং ১ হাজার ৭৭০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময়ে ২১টি খুন, ৫টি দস্যুতা, ৩টি অপহরণ, ধর্ষণ ছাড়া নারী নির্যাতনের ১৭২টি, ধর্ষণ ছাড়া শিশু নির্যাতনের ২৩টি এবং ৭১টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩টি গণধর্ষণের ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ৮৮টি চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার-সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৫৬২টি।
মামলার তদন্তের বিষয়ে ডিআইজি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা প্রয়োগ করে প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। মামলার প্রকৃতি ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রযোজ্য আইন অনুসরণে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১
সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর রেঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মোট ৪৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশের ২৯টি এবং হাইওয়ে পুলিশের ১৫টি মামলা রয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানায় ১০টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বাধিক, ৩৩টি।
কমেছে অনিষ্পন্ন গ্রেফতারি পরোয়ানা
সভায় জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে রংপুর রেঞ্জে মোট ৪০ হাজার ৪৮৫টি জিআর ও সিআর গ্রেফতারি পরোয়ানা অনিষ্পন্ন ছিল। ওই মাসে ৬ হাজার ৭৯টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি হওয়ায় মাস শেষে অনিষ্পন্ন পরোয়ানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০৬টিতে।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে জরিমানা ১ কোটি ১২ লাখ টাকা
সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মোট ৩ হাজার ৫৫৯টি প্রসিকিউশন করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জরিমানার মোট পরিমাণ ১ কোটি ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে যানবাহন আটক-সংক্রান্ত কার্যক্রমের তথ্য সভায় উপস্থাপন করা হয়।
উদ্ধার ৩৫৭টি হারানো মোবাইল ফোন
আলোচ্য মাসে হারানো মোবাইল ফোন-সংক্রান্ত ১ হাজার ৮০৪টি জিডি ও মামলার বিপরীতে ৩৫৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ
পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে রংপুর রেঞ্জের সব ইউনিটের সমন্বয়ে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা দেন ডিআইজি।
এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে বেসিক কম্পিউটার ও বেসিক ইংলিশ কোর্স চালুর বিষয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রংপুর রেঞ্জের আওতাধীন সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে পেশাদার পুলিশি সেবা দিতে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে সভায় জানানো হয়।