মুক্তিযোদ্ধা থেকে চরমপন্থি নেতা, আলোচিত লাল্টুর উত্থান-পতনের গল্প

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের একসময়ের চরমপন্থি নেতা নুরুজ্জামান লাল্টু ছিলেন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা। ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই সহযোগীদের নিয়ে অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ২০১৫ সালে মেহেরপুরের গাংনীতে তিনজনকে হত্যা মামলায় লাল্টুসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ নেতাকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন তিনি।

২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৭২ বছর বয়সে লাল্টুর মৃত্যু হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গায় তাকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা থেকে চরমপন্থি

নুরুজ্জামান লাল্টু চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সশস্ত্র চরমপন্থি রাজনীতির সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। তার নেতৃত্বে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সংগঠিত গোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে সক্রিয় ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় লাল্টু ও তার বড় ভাই মতিয়ার রহমান মণ্টু গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর তার জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়। একপর্যায়ে তিনি চরমপন্থি সংগঠনে যুক্ত হন।

কাজী আরেফ হত্যাকাণ্ডে লাল্টু বাহিনী

১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জনসভা চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচজন নিহত হন।

বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা একের পর এক গুলি করে মানুষ হত্যা করতে থাকলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা কাজী আরেফ অস্ত্রধারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার লোকদের এভাবে হত্যা করো না। আমরা কী দোষ করেছি? তোমরা বললে, আমরা না হয় এখানে রাজনীতি করব না। এভাবে মেরে কী লাভ তোমাদের?’

এ সময় হামলায় নেতৃত্বদানকারী এক ব্যক্তি কাজী আরেফের কাছে গিয়ে তার নাম জানতে চান। কাজী আরেফ নিজের নাম বললে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘তোকেই তো খুঁজছি।’ এরপর অন্য দুজন গুলি চালালে মঞ্চের ওপরই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন কাজী আরেফ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লাল্টু বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল।

দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই লাল্টু তার সহযোগীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গায় পুলিশের কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। কাজী আরেফসহ পাঁচজনকে হত্যার দায়ে লাল্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মেহেরপুরের গাংনীতে ১৯৯৪ সালে তিনজনকে হত্যার দায়ে ২০১৫ সালে নুরুজ্জামান লাল্টুসহ পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, শওকত আলী মালিথা, তার ছেলে হেলাল উদ্দিন এবং প্রতিবেশী নুর ইসলামকে হত্যা করেছিল লাল্টু বাহিনী।

এ ছাড়া লাল্টুর বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৪০টি মামলা ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যাবজ্জীবন সাজা হলেও ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ওই সময় সাংবাদিকদের কাছে কৃষিকাজ করে জীবন কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন লাল্টু।

জীবন্ত মানুষকে হাত-পা বেঁধে ইটের ভাটায় ফেলার অভিযোগ

মানুষ হত্যার পর আলামত নিশ্চিহ্ন করতে লাল্টু লাশ জ্বলন্ত ইটের ভাটায় পুড়িয়ে ফেলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বহু মানুষকে জীবন্ত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে ইটের ভাটায় ছুড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার এসব নৃশংস কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী ছিলেন তারই ভাতিজা বিপ্লব বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

লাল্টুর বাবা ‘সিরাজ ডাকাত’

লাল্টু ছিলেন তার মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ‘সিরাজ ডাকাত’ নামে পরিচিত ছিলেন। অন্যের ঘরবাড়ি ও জমি দখল করতেন বলে অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৬৩ সালে আলমডাঙ্গা থানার শিবপুর গ্রামে বলপ্রয়োগ করে একটি বাড়ি দখল করে সেখানে দুপুরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সিরাজ ডাকাত। এ সময় অতর্কিতভাবে গ্রামবাসীর হামলায় তার মৃত্যু হয়।

১৫২ বন্দিসহ কারাগার ভেঙে পালিয়েছিলেন মণ্টু-লাল্টু

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মণ্টু ও লাল্টু—দুই ভাই। চুয়াডাঙ্গা উপকারাগারে বন্দি থাকাকালে ১৯৭৩ সালের ১৪ জুলাই ১৫২ জন হাজতি ও কয়েদিসহ কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নেতৃত্ব ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটি কাহিনি অনুযায়ী, ওই ঘটনার আগে কারাগারে লাল্টুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তার মা। তিনি ছেলের জন্য একটি কাঁঠাল নিয়ে গিয়েছিলেন। জনশ্রুতি আছে, সেই কাঁঠালের ভেতরেই লাল্টুর জন্য অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই কারাগারে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং লাল্টুসহ অন্য বন্দিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে প্রচলিত রয়েছে।

এরপর ১৯৭৪ সালে নিহত হন তার আরেক ভাই আন্টু। এ সময় দুই ভাই সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৭৪ সালের ২১ মার্চ মেহেরপুরের ট্রেজারির অস্ত্রাগার লুট করতে গিয়ে বড় ভাই মণ্টুও নিহত হন।

থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার

১৯৭৫ সালের ৩০ মে চুয়াডাঙ্গা সদরের নুরুল্লাপুর গ্রাম থেকে লাল্টু তার নয় সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন। প্রায় নয় বছর পর ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান তিনি।

এরপর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেন লাল্টু। জীবিকার প্রয়োজনে পশু বেচাকেনা এবং স্থানীয় গোকুলখালী বাজারে আড়তদারি ব্যবসা শুরু করেন। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ওই সময় তিনি তীব্র হতাশায় ভুগছিলেন এবং আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। এ ছাড়া ওই অঞ্চলে গোপনে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গ্রুপের কারণে তার জীবনযাপনও হুমকির মুখে ছিল।

১৯৮৭ সালে আলমডাঙ্গা থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নির্বাচিত হন লাল্টু।

দল থেকে বহিষ্কার

১৯৯৬ সালে লাল্টুকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি ভারতে চলে যান। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান।

আত্মসমর্পণ, এরপর যা বলেছিলেন লাল্টু

দেশে ফিরে ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই খুলনার তৎকালীন ডিআইজি লুৎফুল কবিরের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন লাল্টু।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে সময় একটি প্রভাবশালী মহল চেয়েছিল, লাল্টু যেন আত্মসমর্পণ না করেন। আর আত্মসমর্পণ করলেও যেন তার সাজা মওকুফের ব্যবস্থা করা হয়। তবে জনমতের চাপে সরকার তাকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ওপরও লাল্টু, তার ভাতিজা বিপ্লবসহ বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডারদের আত্মসমর্পণের বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে লাল্টু আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।

আত্মসমর্পণের সময় দেওয়া বক্তব্যে লাল্টু বলেছিলেন, ১৯৯১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মারফত ভাই—মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলী, কুষ্টিয়ার মিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান—খুন হলে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরপরই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একদল লোক হামলা চালায়। এ অবস্থায় ১৯৯২ সালে তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন।

তবে ১৯৯৫ সালের ৬ জুলাই দামুড়হুদার কুলবিলা গুচ্ছগ্রামে পার্টির সশস্ত্র ক্যাডাররা আট কৃষককে হত্যা করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দলত্যাগ করেন বলে নিজের বক্তব্যে জানিয়েছিলেন লাল্টু। তার দাবি ছিল, দলটি তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। ফলে তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পর আত্মরক্ষার প্রয়োজনে একটি গ্রুপ গঠন করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি নুরুজ্জামান লাল্টু

২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লাল্টু সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৩০টিরও বেশি মামলা হয়েছিল, যার বেশির ভাগই হত্যা মামলা। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজা হয়েছিল। বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, যে তিনটি মামলায় সাজা হয়েছিল, তার দুটিতে আগেই জামিনে ছিলেন। সর্বশেষ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ১৯ বছর পর কারাগার থেকে বের হন তিনি।

সেদিন লাল্টু বলেছিলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯ বছর পর কারামুক্ত হলাম। আলোর মুখ দেখলাম। এবার কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করব। যারা চরমপন্থি-সন্ত্রাসী, তাদের বলব আলোর পথে ফিরে আসো। সন্ত্রাসে শান্তি নেই।’

সশস্ত্র গ্রুপ গঠন ও আঞ্চলিক আধিপত্য

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৩০ মার্চ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার চারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হন। তার স্থলে দলের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কমান্ডার হন তার ভাই সবুজ।

পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির ওই দুর্বল অবস্থার মধ্যে লাল্টু দ্রুত নিজের সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তোলেন। তার সঙ্গে যোগ দেন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কিছু সদস্য, সিরাজ বাহিনীর কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার এবং ছোট ছোট সন্ত্রাসী ও ডাকাত দলের সদস্যরা।

জনশ্রুতি রয়েছে, নিজের সশস্ত্র গ্রুপকে শক্তিশালী করতে এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান দুর্বল করতে লাল্টু বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহায়তা পেয়েছিলেন।

১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর লাল্টু ‘বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’ গঠন করেন। এরপর দ্রুত নিজের বাহিনীকে সংগঠিত করে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও সিরাজ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। ত্রিপক্ষীয় ওই সংঘাতে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর এবং কুষ্টিয়ার একাংশে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত এ সংঘাত চলতে থাকে।

বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের আগে লাল্টুর ‘বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’ আলমডাঙ্গা থানার কালিদাসপুর ইউনিয়ন ছাড়া অন্য ইউনিয়নগুলোতে, চুয়াডাঙ্গা সদরের সব ইউনিয়নে এবং দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার একাংশে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল।

লাল্টুর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলার তথ্য

লাল্টুর বিরুদ্ধে সহজে কেউ হত্যা মামলা করার সাহস পেতেন না বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এরপরও তার বিরুদ্ধে ২১টি হত্যাসহ ২৬টি মামলা হয়েছিল বলে বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আত্মসমর্পণের পর মামলার সংখ্যা আরও বাড়ে। দুটি মামলায় যাবজ্জীবনসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল বলে জানা যায়।

১৯৯৩ সালের ১০ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় একটি হত্যা মামলাসহ অর্ধশতাধিক মামলায় লাল্টু কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ৭২ বছর বয়সে লাল্টুর মৃত্যু হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি কয়রাডাঙ্গা গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।