সাটুরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের জমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু বালু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের দাবি, এ কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। পাশাপাশি মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট। এসব ঘটনায় অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৫ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের আগ-সাভার এলাকার হামজা মাঠ ও দোয়েল মোড় দিয়ে বালুবাহী মাহেন্দ্র ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি চলাচল করছে। এসব যানবাহনে করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক্টর বালু বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের জমি থেকে বেলচা ও কোদাল দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। হালচাষের ট্রাক্টরের সঙ্গে অবৈধ ট্রলি যুক্ত করে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের ভারী চাকার চাপে এলাকার আধাপাকা রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, চলন্ত মাটিবাহী গাড়ি থেকে উড়তে থাকা ধুলায় রাস্তার পাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়ছেন।
বালু উত্তোলনের কারণে নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ও তার সহকারী এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, সাপ্তাহিক অর্থের বিনিময়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলতে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঝেমধ্যে বালুবোঝাই মাহেন্দ্র গাড়ি আটক করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে রাখা হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
বালু বিক্রির অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় মো. নজরুল ইসলাম, মো. রমজান মেম্বার, মো. দেলোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে বালু চুরির অভিযোগে সরকার বাদী হয়ে একাধিক মামলা করেছে। কেউ কেউ এসব মামলায় জেলও খেটেছেন বলে তারা জানান। তবে এসব মামলার নথি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী বলেন, বাধা দেওয়া হলে বালু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালু বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, উপজেলার অন্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আগ-সাভার এলাকার হামজা মাঠ ও দোয়েল মোড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এমন নীরবতায় তারা হতাশ। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে বরাইদ ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা মো. মোশারফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি গতকাল বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. অনিক ইসলাম বলেন, “সরকারি বালু চুরি করে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নদী থেকে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
