সাড়ে ৭ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল, সংযোগ সড়ক নেই ৫ বছরেও

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরই মধ্যে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুরুলিয়া এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, চরকুরুলিয়া এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাটে পদ্মার শাখা নদীর ওপর ২০২১ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজটি পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও প্রায় অর্ধকোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকায়।

দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলা নির্মাণকাজে সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মূল কাঠামো নির্মিত হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে সেতুটি দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়ম ও সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সেতুর ফাটল ও ভাঙনের কারণ নির্ণয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।