সামাজিক নিরাপত্তায় আশার ব্যয় ১১৮ কোটি টাকা, বরাদ্দ ১৭৫ কোটি

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৫ সালে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা। চলতি বছর এ খাতে ১৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রংপুরে এনজিও ফোরামের সভাকক্ষে আশার বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি আশার শিক্ষা, শিক্ষাবৃত্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিওথেরাপি, স্যানিটেশন, দুর্যোগকালীন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

সভায় জানানো হয়, আশা রংপুর বিভাগের ৪৩৫টি ব্রাঞ্চের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৬ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঋণ বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি রংপুর বিভাগে আশার ১০৭টি ব্রাঞ্চে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব ব্রাঞ্চের আওতায় এক হাজার ২২টি শিক্ষা কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৯৩৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি ব্রাঞ্চে সমন্বিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে গত অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩৪ জনকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, রংপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও সদরে অবস্থিত তিনটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার এবং বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২ হাজার ২১৩ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০টি কম্বল হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যানিটেশন উদ্যোক্তা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ এবং গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় ‘হোপ ফর দি পুওরেস্ট (এইচপি)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সদস্য কল্যাণ কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩২৬ জন সদস্যকে অবসর সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এক হাজার ৭০৫ জন সদস্যের মৃত্যুতে এককালীন ৮৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার ২৮১ জন মৃত সদস্যের ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা অনাদায়ী ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

পাশাপাশি তিন হাজার ৪৮২ জন অভিভাবকের মৃত্যুতে ১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কর্মক্ষমতা হারানো ৬৪ জন সদস্য ও অভিভাবকের ২৪ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন হাজার ৮৭৫ জন সদস্যকে ৮৮ লাখ ২২ হাজার টাকার চিকিৎসাসহায়তা দেওয়া হয়েছে। আশার এসব কর্মসূচি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসাদ্দেকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশার রংপুর ডিভিশনাল ম্যানেজার এস. এম. বেলাল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলার সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হারুনার রশীদ সেখ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আশার সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।