বিজয়নগরে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, আদালতে মামলা

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার করে এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আলমগীর হোসেন গত ১৩ অক্টোবর বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৫৬৩/২০২৬।

অভিযুক্ত বিল্লাল উপজেলার সাতগাঁও গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, মামলার বাদী আলমগীর হোসেন জাতীয় দৈনিক ‘ভোরের দর্পণ’ পত্রিকার বিজয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিজয়নগরে একটি ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই চান্দুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল মেম্বারের ইন্ধনে আলমগীরকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর প্রচারণা ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো শুরু হয়।

সাংবাদিক আলমগীর হোসেনের দাবি, অভিযুক্ত বিল্লালের প্ররোচনায় এলাকায় একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সরাসরি তার নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। এমনকি তার কর্মস্থলেও একদল দুর্বৃত্ত হামলার চেষ্টা চালায়।

আলমগীর আরও অভিযোগ করেন, ধর্ষণচেষ্টা মামলার মূল ভুক্তভোগীর শাশুড়িকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার (সাংবাদিকের) নাম বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে ঘটনার মূল ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল আলামত সংগ্রহের পর গত ১৩ অক্টোবর আইনের আশ্রয় নেন সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।

এ ছাড়া বিল্লাল মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপিং তৈরি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, অর্থ লেনদেনে জালিয়াতি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনসংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিল্লাল আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান বদলেছেন।

সাংবাদিক আলমগীর হোসেন বলেন, বিল্লালের গোপনে উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

অভিযুক্ত বিল্লাল মেম্বার বলেন, তদন্তের জন্য এলাকায় মানুষ আছে।

চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ তার কাছে এলে তিনি স্থানীয়ভাবে বসে একটি সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা করবেন।