মাঠে জুড়ে সবুজের সমারোহ
সিরাজগঞ্জে রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১১ | অনলাইন সংস্করণ
এস,এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার রোপা আমন ধান চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটতেও শুরু করছে। বিশেষ করে পড়ন্ত বিকেলে মন জুড়ে যায় এ সবুজের দৃশ্য দেখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলায় প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছে কৃষকেরা। এ জেলার শস্যভান্ডার খ্যাত তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলাসহ সবকয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোপা আমন ধানের চারা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ থেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি জমিতে রোপণ করে কৃষকেরা। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান ৭১, ৭৫, ৪৯, ১০৩ এবং দেশীয় জাতের ধানের চারাও রোপণ করা হয়েছে। এ চাষে খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা বেশি চাষ করেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ চাষে কৃষকদের নানা রকম পরামর্শ দিয়েছে। এ চাষে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঝুকে পড়ে। তবে বিগত বছরের চেয়ে এবার এ চাষে কিছুটা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরেও কৃষকেরা এ চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এবার জমিতে ধানের চারা রোপণের আগে এবং পরে দফায় দফায় বর্ষণ হয়েছে। এতে কৃষকের সেচ খরচও কম হয়েছে এবং খাল-বিল অঞ্চলে এ চাষ বেশি হয়েছে। সার ও কীটনাশক প্রয়োগে কিছুটা খরচ বেড়েছে এবং ধান ক্ষেত পরিচর্যা ক্ষেত্রে কামলা সংকট ও মজুরী বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। পড়ন্ত বিকেলে মাঠে মাঠে সবুজের এ দৃশ্যে মন জুড়ে যায় কৃষকের। এমনকি এ দৃশ্য প্রকৃতি প্রেমিরা সেলফিও তুলছে এবং সকাল ও বিকেলে এ সেলফি তোলার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই দৃষ্টি কেড়ে নেয় সবুজের সমারোহ। আগামী মাসের মাঝামাঝি অনেক স্থানে এ ধান কাটা শুরু হবে এবং বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসিও ফুটবে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার রোপা আমন চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এ চাষাবাদের মাঠও পরিদর্শন করছেন এবং নানারকম রোগবালাই রোধে কৃষকদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। এ চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এতে ইতিমধ্যেই কৃষকের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
