রাঙামাটির সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মিলছে সত্যতা
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৩ | অনলাইন সংস্করণ
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির সাবেক পৌর কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ কানিজ সুলতানা কেয়া (২৬) বাদী হয়ে রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে সাবেক কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক জানান, এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আদালত পরবর্তী নির্দেশের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদ (৫০) রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তিনি শহরের ডিসি বাংলো এলাকার বাসিন্দা।
গত ৮ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। মামলাটি কোতোয়ালী থানার ১৮/২৬ নম্বর মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ)/১০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৩/৪০৬/৪২০/৫০৬(ii) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদের সঙ্গে বাদীর পরিবারের পূর্বপরিচয় থাকায় তিনি প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়িক সংকটের কথা বলে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে এক মাসের জন্য ধার হিসেবে ৫ ভরি ২ আনা স্বর্ণালংকার নেন। পরে স্বর্ণালংকার ফেরত না দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাব এবং কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এতে রাজি না হওয়ায় বাদী ও তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত বনরূপার কাটা পাহাড় লেন এলাকায় গৃহবধূর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে জোরপূর্বক শয়নকক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে গৃহবধূর চিৎকারে তার স্বামী সেখানে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর ফোনে গৃহবধূকে স্বর্ণালংকার ফেরত না দেওয়ার কথা জানান এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন অভিযুক্ত সাবেক এই কাউন্সিলর। ঘটনাটি সামাজিকভাবে মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হলে পরে থানা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত নেয়াজ আহমেদ দাবি করেন, তিনি নিজেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য, আনা অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আপস হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কানিজ সুলতানা নামে এক গৃহবধূ একদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসেছিলেন। তিনি নিজেই ওই গৃহবধূকে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি শুনেছেন, বিষয়টি আপস হয়েছে।
