রংপুরে শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা, আরও দুজনের লাশ উদ্ধার
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেলার মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মাদ্রাসাশিক্ষক, এক স্কুলশিক্ষার্থী ও এক নারী। মাদ্রাসাশিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত মাদ্রাসাশিক্ষক ফকরুল আলম রতনের (৫০) বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান তৌসিলদারের ছেলে। মিঠাপুকুর উপজেলায় উদ্ধার হওয়া স্কুলশিক্ষার্থীর নাম আমিনুল ইসলাম আকাশ (১৬)। তিনি উপজেলার মাটিয়া খোলা গ্রামের রহেদুর জামান মন্নুর ছেলে। অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলায় উদ্ধার হওয়া নারীর নাম তাহমিনা খাতুন (২৫)। তিনি হারাগাছের ফাতাংটারী এলাকার সর্দার পাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার ৪ নম্বর ভাংনী ইউনিয়নের জুগিপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে আকাশের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, রাস্তার পাশ থেকে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মহেশা গ্রামের আবেদ আলী মণ্ডলের পুকুরে এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত তাহমিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার মণ্ডল জানান, নিহত নারীর পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে ফকরুল আলম রতনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন রতনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে রতনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র মণ্ডল জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
