কাউখালীতে শ্মশানঘাটের গাছ থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বপন দেবনাথ (৪৬) নামের এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের মদনমোহন জিউর আখড়াবাড়ির পেছনে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকার একটি রেন্ডি গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন দেবনাথ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাউখালী উপজেলা সদরের উত্তর বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

কাপুড়িয়াপট্টির ব্যবসায়ী সাধনের ভাগ্নে হওয়ায় মামার দোকানের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ‘শ্রুতি টেইলার্স’ নামে একটি পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট এলাকায় একটি রেন্ডি গাছের সঙ্গে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় স্বপনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে কাউখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়।

স্বজন ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বপনের সঙ্গে তার স্ত্রীর কলহ চলছিল। ব্যবসায় মনোযোগ না দিয়ে স্বপন বেশির ভাগ সময় মোবাইল ফোনে গেম খেলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী শ্রুতি একটি পার্লার পরিচালনা করতেন। এসব বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা হতো বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

স্বপন ও শ্রুতি দম্পতির শ্রুতি নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঘটনার আগে তার স্ত্রী স্বপনের মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে নিয়ে নেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে স্বপনের মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার স্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক সুব্রত কর্মকার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।