রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পৌঁছাল প্রকল্প এলাকায়
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির নতুন চালান পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বুধবার ভোরে বিমানবন্দর থেকে তিনটি লরিতে জ্বালানি নিয়ে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
জ্বালানি পরিবহনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও আটটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসে। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপন করা হয়। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৩ অক্টোবর অতিরিক্ত জ্বালানির আরেকটি চালান রূপপুরে আনা হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটিসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
