জিনের বাদশা ও তান্ত্রিক সেজে প্রতারণা, ফরিদপুরে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন। প্রতারণার এমন নানা কৌশলে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর।

গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত বিজয় বাবুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তাকে ফোন দেওয়া হয়।

এ সময় ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করেন প্রতারকরা। পরে জরুরি টাকার প্রয়োজনের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা।

নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা করেন তিনি। তবে দীর্ঘ আট মাসেও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রায় এক বছর পর প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, প্রতারণার কাজে চক্রের সদস্যরা ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করতেন। প্রতারণার পর সেসব সিম ফেলে দিতেন তারা। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় ছিল তাদের অন্যতম কৌশল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেন, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করতেন, আবার অন্য সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করতেন।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।