জমি নিয়ে বিরোধে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা, দাবি যুবদল নেতার

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সিকে ঘিরে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মসজিদ, মন্দির ও বাজার কমিটির নেতারা।

অবিলম্বে অপপ্রচার বন্ধ করা না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বাহাদুর মুন্সি প্রায় চার বছর ধরে বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, তিনি যখন এ পদে দায়িত্ব পান, তখন মামলা ও হয়রানির আতঙ্কে কেউ পদ নিতে চাইতেন না। অথচ তার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বাহাদুর মুন্সি বলেন, ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলায় তার নামও যুক্ত করা হয়েছে। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে গুম করার উদ্দেশ্যে বটিয়াঘাটা থেকে তুলে নিয়ে রূপসা থানার একটি নাশকতার মামলায় চালান দেয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বাহাদুর মুন্সির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এজাজুর রহমান শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খন্দকার। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

চক্রাখালী গজালমারী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় রায় বলেন, দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে উদযাপিত হয়, সে জন্য বাহাদুর মুন্সির তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। অথচ তার মতো একজন মানুষের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অন্যায়।

চক্রাখালী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসিম বিশ্বাস বলেন, বাহাদুর মুন্সি না থাকলে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দুর্বৃত্তরা বাজারটি লুটপাট করে তছনছ করে ফেলত। ওই সময় তিনি জেলে ছিলেন। সেখান থেকেই অনুসারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন। প্রায় প্রতি রাতেই তার লোকজন বাজার পাহারা দিতেন। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন অসিম বিশ্বাস। তার ভাষ্য, বাজারের সাতটি দোকান দখলের যে অভিযোগ বাহাদুর মুন্সির বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

চক্রাখালী মোড়ের বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি ২২ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তার দেখা মতে, বাহাদুর মুন্সি মানুষের উপকার করেন। তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন কাউকে তিনি পাননি। অপপ্রচারকারীদের কঠোর শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পান্নু মিয়া বলেন, তেঁতুলতলা এলাকার মরিয়ম নামের এক নারীর ২৫ শতক জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ এ নামে কোনো নারীকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে বাহাদুর মুন্সির ভাই বাদশা ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান পরিচালনা করলেও সেটি দখল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিভাস গোলদারের নাম নিয়েও মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল খান জানান, পশুর নদীর তেঁতুলতলা, পুটিমারি, কাতিয়ানাংলা ও আশপাশের এলাকার বালুমহাল বাহাদুর মুন্সি দখল করেছেন—এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। এর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

বটিয়াঘাটার রাঙ্গেমারী এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বাহাদুর মুন্সি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই তিনি আট শতক জমি কিনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দাগের তথ্য অনুযায়ী খাজনা দাখিলার মাধ্যমে জমির দখল বুঝে নিয়েছেন। তার দাবি, আরএস পৃথক খতিয়ান নম্বর ২৬৭৭৬৪ ও দাগ নম্বর ২১৬৩ অনুযায়ী জমিটি কেনার পর তিনি দখল নেন। পরবর্তী বিডিএ জরিপে আবুল হোসেনের নামে খতিয়ান নম্বর ১০৮২৮ ও দাগ নম্বর ১১০৭৩ উল্লেখ করে দলিলের ভিত্তিতে জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে ইসতিয়াক হাসান ও তার মা নাছিমা হাসান জমি দখলের চেষ্টা এবং স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন। তবে বাহাদুর মুন্সি এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শুধু অভিযোগ তুলেই ক্ষান্ত হননি; বিভিন্ন কল্পকাহিনি যুক্ত করে অনৈতিক উপায়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তাতে কাজ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বাহাদুর মুন্সি আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। তার কাছে একাধিকবার দুই পক্ষের উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও নাছিমা হাসান সেখানে উপস্থিত হননি বলে দাবি করেন তিনি।

বাহাদুর মুন্সির ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। জমির কাগজপত্রের বৈধতা ও মালিকানার বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই করার দাবি জানান তিনি। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান রয়েছে। তার দাবি, আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা ‘বাহাদুর মুন্সি ক্রয়কৃত জমি দখলে আছেন’ মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

বাহাদুর মুন্সি বলেন, জমি কেনা ও দখল বুঝে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।