সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপির বিকল্প নেই: আমিরুল বাহার

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে যুগ যুগ ধরে চলে আসা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন প্রতিবছর বসে এ মেলা। একসময় জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার প্রথা প্রচলিত থাকায় মেলাটি ‘বউ মেলা’ নামেও পরিচিত ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার প্রভাবে সেই প্রথা এখন আর প্রচলিত নেই। বর্তমানে মেলাটি পরিণত হয়েছে আত্মীয়স্বজনের মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজনে।

শুক্রবার বিকেলে বীরগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সাঁওতাল তরুণ-তরুণীরা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে নানা সাজে মেলায় আসেন। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলেও মূল আয়োজন জমে ওঠে বিকেলের পর থেকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে উৎসবের আমেজ। মেলায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

মেলার নিরাপত্তায় বীরগঞ্জ থানা-পুলিশের নেতৃত্বে আনসার ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

মিলনমেলার আয়োজক কমিটি আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি যোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলামের প্রতিনিধি, বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও বীরগঞ্জ পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ মো. আমিরুল বাহার।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় সারা বাংলাদেশে কোনো পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা ও নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন এবং বীরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতা শীতল মার্ডী।

বক্তারা বলেন, কারও মতে, এ মেলার বয়স ২০০ বছরের বেশি। আবার কেউ বলেন, এটি বহুদিনের ঐতিহ্য। তবে ঠিক কবে মেলার শুরু হয়েছিল, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না।

একসময় জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার প্রথা প্রচলিত থাকায় মেলাটি ‘বউ মেলা’ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই প্রথা এখন আর নেই। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা এখন শিক্ষিত হচ্ছেন এবং সামাজিকভাবে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। তাই দিনটিকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলিত হওয়া ও আনন্দ ভাগাভাগির উপলক্ষ হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি সনাতন, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মেলায় অংশ নিয়েছেন। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ ব্যতিক্রমী মেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সব বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলায় বাহারি কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালা, মাটির তৈরি খেলনা, গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত দা, কুড়াল, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা। ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।

অন্যদিকে, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে চলে সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গানের আসর।

আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা ও নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস বলেন, আগে এ মেলাকে ঘিরে জীবনসঙ্গী নির্বাচনসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রথার প্রচলন ছিল। বর্তমানে অনেকে প্রচলিত সামাজিক রীতি ও রাষ্ট্রের আইন মেনে বিয়ে করছেন। এখন মেলাটি মূলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আনন্দ-উৎসব ও পারস্পরিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।