বিএনপির জয় মানেই ঠাকুরগাঁও শূন্য হওয়া: গোলাম পরওয়ার
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৮ | অনলাইন সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলে এ জনপদকে শূন্য করে ফেলা হবে। তাই ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে আগামী ২৯ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে। তাদের অতীতের লুটপাট ও ভুয়া ইতিহাস সৃষ্টির অপচেষ্টা দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিএনপি নিয়মিত জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১৯৯৬ সালের মাগুরা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচনে কোনো ধরনের কার্ড চুরির চেষ্টা করা হলে ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিএনপির বিগত সাত মাসের শাসনকালের সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এ সময়ে বিএনপি টেন্ডারবাজি, সার সিন্ডিকেট ও সার ডিলার নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওই প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা, নির্যাতন বা হয়রানির কোনো ইতিহাস নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপির চেষ্টা করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত নেতারা। তারা বলেন, ভোটে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি হলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনে ঠাকুরগাঁও আসন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এবং ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
