৩৫ দিনে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  সিলেট প্রতিনিধি

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স এবার ৩৫ দিন পর খোলা হয়েছে। শনিবার দিনভর দানবাক্স ও ডেকচির টাকা গণনা করা হয়। এবার মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিতে পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা।

দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ১৩ দশমিক ৫০ ওমানি রিয়াল, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৭ কাতারি রিয়াল, ১০০ বাহরাইনি দিনার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ২৯ মার্কিন ডলার, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট।

এ ছাড়া ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২০ থাই বাত, ১৫ মালদ্বীপের রুফিয়া, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি পাওয়া গেছে।

এদিকে, দান হিসেবে পাওয়া সাতটি গরুর মধ্যে চারটি লঙ্গরখানায় জবাই করা হয় এবং বাকি তিনটি খাদিমদের দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২১০টি লঙ্গরখানায় এবং ২৭টি শিন্নির জন্য জবাই করা হয়। বাকি ৪৮টি ছাগল খাদিমদের দেওয়া হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এ টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হবে এবং আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য ম্যানেজার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কম্পিউটার অপারেটর—এই তিনটি পদে লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগের পর দানের টাকার ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ব্যয় করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নিয়োগের পর প্রতিদিন টাকা গণনা করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও মাসখানেক লাগতে পারে। এর আগে আরও একবার তাদের ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা করা হতে পারে।

টাকা বণ্টন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, উচ্চপর্যায়ের কমিটি সবার সঙ্গে আলোচনা করেই শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাজার পরিচালনায় অনেক খরচ হয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মাজারের বিভিন্ন দানবাক্স ও ডেকচিতে দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসক জানান, আপাতত মাসে একবার টাকা গণনা করা হবে। পরে ম্যানেজার ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিদিন টাকা গণনার কাজ করা সম্ভব হবে।

আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির গত ২৩ সেপ্টেম্বরের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মাজারের দানের টাকার ৩৫ শতাংশ উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।