সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ, এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন, মোহাম্মদ আখতার হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল হক, মো. আবদুল কাদের, মুহাম্মদ আবদুল করিম, মো. শহিদুল্লাহ, মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ মহসীন আলী ও রিদওয়ানুল হক।

যেভাবে ঋণ অনুমোদন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের নগরের বহদ্দারহাট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের আবেদন করেন। পরে ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঋণের অর্থ ছাড় করতে আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের এজিএম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখানো হয়। তার নামে ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ ও ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। তবে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত ঠিকানায় কোনো কার্যালয়, গুদাম বা ওয়্যারহাউসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ইনভয়েস ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে মালামাল সরবরাহ না করেই এসব নথির ভিত্তিতে ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের বিপরীতে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ

এজাহার অনুযায়ী, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে ইস্যু করা পে-অর্ডারের অর্থ প্রথমে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির স্টেশন রোড শাখায় প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ঘুরে অর্থের একটি অংশ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে ২৭টি ডিলের বিপরীতে মোট ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা; দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ এনেছে।