ত্রিশালে ৪৬ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৮
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ইয়ার্ড থেকে প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহসহ পাঁচ জেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২ অক্টোবর ভোররাতের মধ্যে ত্রিশাল উপজেলার ২ নম্বর বৈলর ইউনিয়নের মঠবাড়ি বড় পুকুরপাড় এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ইয়ার্ডে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
দুটি ট্রাকে করে আসা ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে ইয়ার্ডের পাহারাদারদের জিম্মি করে। পরে তারা ইয়ার্ডে থাকা বিপুল পরিমাণ এমএস পাইপ, স্টিল শাটার, স্টিল জয়েন্ট, জানালার গ্রিল, নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও নয়টি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। মামলায় লুণ্ঠিত মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখছেদুর রহমান বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ধারাবাহিক অভিযানে পর্যায়ক্রমে ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের মো. সেকত ওরফে সাখায়াত (২৪), বরিশালের মো. বাদল ওরফে আসলাম (২৮), ময়মনসিংহের ট্রাকচালক মাসুদ মিয়া (৩৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের মো. ফরিদ হোসেন (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার নাওজোড় এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৭২৫০। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার আরআইসি লোহার কোম্পানি থেকে লুণ্ঠিত ছয়টি এমএস পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহম্মদ সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
