রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।
পুলিশ ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চক করিম (তেলিপাড়া) এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিশু চন্দ্র মহন্ত বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার গুজিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আমিনুল দফাদার নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা করেন। ৩০ নম্বর মামলাটিতে সৌরভ চন্দ্র মহন্তকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দীনেশ চন্দ্র মহন্ত জানান, সন্ধ্যায় একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক বলেন, পৃথক দুটি মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
