২২ দিনের বিরতি শেষে ইলিশ শিকারে প্রস্তুত ভোলার জেলেরা
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২১ | অনলাইন সংস্করণ
ভোলা প্রতিনিধি

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদীতে মাছ শিকারে নামবেন ভোলার প্রায় তিন লাখ জেলে। আবারও সরগরম হয়ে উঠবে জেলার শতাধিক মাছঘাট। জেলেপল্লিতে বইছে আনন্দের জোয়ার।
গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলা জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, কালাবাদর, বেতুয়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও ইলিশা নদীর মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলার জেলেরা। মাছ শিকারের জন্য জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত ও মেরামত করেছেন তারা।
জেলেদের আশা, দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকার করে ধারদেনা পরিশোধের পাশাপাশি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা। জেলার সাত উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার হলেও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ।
ভোলা সদর উপজেলার তুলাতলী মাছঘাট এলাকার জেলেপল্লিতে জেলেরা পুরোদমে ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ নতুন জাল কিনে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ তৈরি করেছেন নতুন ট্রলার ও নৌকা। অনেককে পুরোনো জাল, নৌকা ও ট্রলার মেরামত করতেও দেখা গেছে।
জেলে কামাল ও খোকন জানান, ২৯ অক্টোবর রাত ১২টার পর তারা নদীতে নামবেন। সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকারের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। ইতোমধ্যে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে নতুন জাল কিনেছেন এবং পুরোনো ট্রলার মেরামত করেছেন। নদীতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ শিকার করে সব ধারদেনা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
তারা আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে গিয়ে আশানুরূপ পরিমাণ ইলিশ না পেলে গত বছরের মতো এবারও কষ্টে দিন কাটাতে হবে। দেনা পরিশোধ করতে না পারলে পালিয়ে বেড়াতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভোলা মৎস্য বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৯৭টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ৮০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ৯ কোটি ৯২ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি, সরকারের নির্ধারিত ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
