রংপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উদ্‌যাপন, আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার আহ্বান

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে রংপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রংপুর সার্কেল যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন বা আইনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে এবং আশপাশের মানুষকেও সচেতন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

লাইসেন্সবিহীন চালক ও অবৈধ যানবাহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় চালকদের লাইসেন্স না থাকা এবং মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং আইনের বিধান এড়িয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে আইন ভঙ্গকারীদের ছাড় দেওয়া যাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর এবং বিআরটিএর বিভাগীয় পরিচালক সুব্রত কুমার দেবনাথ প্রমুখ।

দিবসটি উপলক্ষে বিআরটিএর পক্ষ থেকে মোটরযান চালক, মোটরসাইকেল চালক, মোটর মালিক, যাত্রী ও পথচারী—এই পাঁচ শ্রেণির অংশীজনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য চারজন সেরা চালকের মধ্যে সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।