চাঁদপুরে ১০ বছর বয়সে কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করল আশ্রাফ

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

মাত্র ১০ বছর বয়সেই পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থী মো. আশ্রাফ আহমেদ নবীন। দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনের অধ্যবসায়ে কুরআন মুখস্থ করে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে সে। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আশ্রাফ আহমেদ নবীন চাঁদপুর সদর উপজেলার পুরানবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।

সে চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার পূর্ব শ্রীরামদী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রিজের গোড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পবিত্র কুরআন হিফজ শুরু করে আশ্রাফ। পরে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে সে। মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহর তত্ত্বাবধানে তার হিফজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

আশ্রাফের হিফজ সম্পন্ন উপলক্ষে সম্প্রতি মাদরাসার উদ্যোগে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা হয় এবং আশ্রাফের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে আশ্রাফের মা-বাবা এবং হিফজের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করা শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এটি হেদায়েতের আলো, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী এবং মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। মহান আল্লাহ নিজেই কুরআন নাজিল করেছেন এবং এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুগে যুগে অসংখ্য হাফেজ, কুরআনের শিক্ষক ও আলেম কুরআনের মূল আরবি পাঠ সংরক্ষণের ধারায় অবদান রেখে চলেছেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আশ্রাফের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করা আনন্দের বিষয়। তার এ অর্জনের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়, মা-বাবার সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, “আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন আশ্রাফকে পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দেন এবং দ্বীন ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত রাখেন।”

মাদরাসার পরিচালকদের পক্ষ থেকে আশ্রাফ আহমেদ নবীনকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়েছে, তিনি যেন আশ্রাফকে কুরআনের একজন হক্কানি হাফেজ হিসেবে কবুল করেন, তার মা-বাবার শ্রম ও ত্যাগের উত্তম প্রতিদান দেন এবং ভবিষ্যতে দ্বীনের দাঈ হিসেবে দেশ ও জাতির খেদমত করার তাওফিক দান করেন।

পাশাপাশি তার হিফজের পেছনে শ্রম দেওয়া শিক্ষকদের প্রচেষ্টা কবুল করে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়।